হজযাত্রীর লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্তে বিমানের দাবি

ভাইরাল অভিযোগের তদন্তে চুরির প্রমাণ মেলেনি, লিখিত অভিযোগও করেননি ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা

হজযাত্রীর লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্তে বিমানের দাবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হজযাত্রীর লাগেজ কেটে উপহারসামগ্রী চুরির অভিযোগে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের করা অভ্যন্তরীণ তদন্তে যাত্রীদের মূল্যবান কোনো মালামাল খোয়া যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “লাগেজ কেটে উপহার-সামগ্রী চুরি যাওয়া একজন হাজির সন্তান” শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এতে দাবি করা হয়, জেদ্দা থেকে আসা একটি হজ ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কেটে মালামাল চুরি করা হয়েছে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪৯১ জন হাজি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০৪ ঢাকায় অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে মোট ৮৩০টি লাগেজ ছিল। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়ার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাউন্ড স্টাফদের মৌখিকভাবে অবহিত করেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট লাগেজগুলোতে জমজমের পানি, খেজুর এবং বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রী ছিল। কোনো যাত্রী মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ করেননি। তবে একজন যাত্রী একটি সিগারেট হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কে গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট-পিআইআর) দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের বিমানবন্দর বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা সঠিকভাবে সিলগালা না করা প্রসাধনসামগ্রী বহন করা নিষিদ্ধ। জেদ্দা বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় এ ধরনের সামগ্রী শনাক্ত হলে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে তা জব্দ করে থাকে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী ঘোষণাবিহীন নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে বহন করাও নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে লাগেজ চুরি বা অসদাচরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তবে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে বিদেশ সফরে থাকা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম মুঠোফোনে পুরো ঘটনার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।