ইতিহাসের সাক্ষী দিনাজপুরের ৪২২ বছরের পুরোনো মসজিদ
ঈদগাহ মসজিদ নামে পরিচিত ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত ৪২২ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ চার শতাব্দীর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এটি এখনও একদিকে মুসল্লিদের, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
ঈদগাহ মসজিদ নামে পরিচিত ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। আকারে ছোট, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মাত্র ১২ ফুট এবং মিনারসহ উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট, হলেও মসজিদটি এখনো সচল রয়েছে। সম্প্রতি সংস্কারের পর এখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
মসজিদের গায়ে থাকা একটি শিলালিপি থেকে জানা যায়, বাংলা সন ১০১০ সালে (১৬০৪ খ্রিস্টাব্দ) এটি নির্মিত হয়। একসময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা থাকলেও বর্তমানে আশপাশে বসতি গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় মসজিদটি অবহেলায় পড়ে ছিল এবং মাঝে মাঝে নামাজ পড়া হতো। তবে ২০১১ সালে স্থানীয় উদ্যোগে সংস্কার কাজ হওয়ায় এটি আবার ব্যবহারযোগ্য হয়। এরপর থেকে নিয়মিত নামাজ শুরু হয় এবং দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরাও এখানে নামাজ আদায় করতে ও স্থাপনাটি দেখতে আসেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি ধর্মীয় স্থান হওয়ার পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনও। সরকারি উদ্যোগে যথাযথ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ধারণা করা হয়, মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউসুফ আলীর পূর্বপুরুষরা মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। সে সময় এলাকায় জনসংখ্যা কম থাকায় একসঙ্গে মাত্র ১০ থেকে ১২ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতো। তিনি আরও বলেন, একসময় মসজিদটিকে ঘিরে থাকা বনভূমি এখন আর নেই।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ মো. মহাতাব উদ্দিন বলেন, সময়ের সঙ্গে মসজিদের ব্যবহার কিছুটা বদলালেও এটি এখনো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দুই ধরনের কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিনের নামাজ ছাড়াও পাশের ঈদগাহ মাঠে বছরে দুইবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
তবে আগের সংস্কার কাজের মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধান ছাড়া সংস্কার করায় মসজিদের কিছু মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে গেছে । মূল নকশা অনুসরণের চেষ্টা করা হলেও প্রাচীন কারুকার্যের কিছু অংশ হারিয়ে গেছে।
২০১১ সালের সংস্কার কাজে যুক্ত মো. নারুল ইসলাম বলেন, সংস্কারের আগে মসজিদটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল, চারপাশে ঝোপঝাড়ে ঢেকে গিয়েছিল এবং কাঠামোগত ক্ষতিও ছিল। তিনি স্বীকার করেন, বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে কাজ হলে এর আসল বৈশিষ্ট্য আরও ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যেত।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম মসজিদটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তিনি দেখবেন।
শতাব্দী প্রাচীন এই ঈদগাহ মসজিদ আজও এ অঞ্চলের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্য ইতিহাসের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
