ঢাবির চারুকলায় শেষ হলো যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী
১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনীতে জলরং, তেল রং এবং ছাপচিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমের কাজ উপস্থাপন করা হয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে 'বন্ধুত্ব এবং শিল্পের একত্রিশ বছর' শিরোনামে সপ্তাহব্যাপী একটি যৌথ চিত্র প্রদর্শনী শেষ হলো আজ বৃহস্পতিবার। চারুকলার (সম্মান) ১৯৯৪-৯৫, তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন ১৭ জন সাবেক শিক্ষার্থী।
সপ্তাহব্যাপী চলা এই চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয় গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেল পাঁচটায়। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল, প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট শিশির ভট্টাচার্য, শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক এবং শিল্পী শেখ আফজাল।
বক্তারা শিল্পের বিভিন্ন নান্দনিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আলোচনা করেন।
প্রদর্শনীতে জলরং, তেলরং এবং ছাপচিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমের কাজ উপস্থাপন করা হয়। বিষয়বস্তু হিসেবে এসেছে প্রকৃতি এবং মানুষ। নিরীক্ষাধর্মী কাজ ছাড়াও, চারুকলায় অধ্যায়নকালীন সময়ে করা নানা ধরনের একাডেমিক কাজও এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন রাজ্জাক প্রধান, হারুনুর রশিদ টুটুল, অনিন্দিতা দত্ত বান্টি, আরিফ, মিমি, শাওন, নাসির, নিলয় ও ফাহমিদা প্রমুখ।
শিল্পী রাজ্জাক প্রধানের এক অনন্য ও গম্ভীর চিত্রকর্ম 'ধ্বংসের নান্দনিকতা'। ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা এই শিল্পকর্মটি সাধারণ কোনো রঙের খেলা নয়, বরং এক চরম বিপর্যয় ও বিষাদের শৈল্পিক রূপান্তর। শিল্পী এখানে কোনো প্রথাগত মাধ্যমের ওপর নির্ভর করেননি; ক্যানভাসের মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন এক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হওয়া মানুষের পুড়ে যাওয়া বাড়ির অবশিষ্ট কয়লা।
প্রদর্শনীটি সপ্তাহব্যাপী সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শকের জন্য উন্মক্ত ছিল।
