সবুজের মাঝে অমর তোমরা, মাইলস্টোনের হারানো প্রাণ

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শিক্ষার্থীদের মানসিক দুর্ভোগ কাটাতে গাজীপুরের পুবাইলে অনুষ্ঠিত হলো "সবুজের মাঝে অমর তোমরা"

সবুজের মাঝে অমর তোমরা, মাইলস্টোনের হারানো প্রাণ
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শিক্ষার্থীদের মানসিক দুর্ভোগ কাটাতে গাজীপুরের পুবাইলে অনুষ্ঠিত হলো

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি ও মানসিক আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে এবং বন্ধু ও স্বজনহারা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ১৬ জুলাই ২০২৬, ছুটি রিসোর্ট পুবাইলে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী মানবিক আয়োজন।

ছুটি গ্রুপ ও রোটারি ক্লাব অব বনানীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় ছুটি রিসোর্ট পুবাইল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন গত বছর ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলে অনুষ্ঠিত "Healing with Brave Heart Students of Milestone School & College" শীর্ষক প্রথম পর্বেরই ধারাবাহিকতা।

মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি প্রানের স্মৃতিতে নামফলকসহ স্মারক গাছ লাগায় শিক্ষার্থীরা।

দিনব্যাপী আয়োজনের শুরু হয়  জাতীয় সংগীত দিয়ে। এরপর  শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মেডিটেশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ছুটি রিসোর্টের উন্মুক্ত সবুজ মাঠে তারা আনন্দঘন ফুটবল খেলায় অংশ নেয়, যা তাদের মধ্যে দলীয় চেতনা, আত্মবিশ্বাস এবং পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে। পরে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে শীর্ষক আর্ট থেরাপি ‘ট্রি অব লাইফ’ অনুষ্ঠিত হয় মনিরা রহমান -এর তত্ত্বাবধানে। সেখানে শিক্ষার্থীরা ছবি, রং এবং সৃজনশীল শিল্পচর্চার মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে। শিল্পভিত্তিক এই থেরাপি শিক্ষার্থীদের ভেতরের আবেগ প্রকাশের একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং তাদের মানসিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল ছবি আঁকা

অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকার প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান শরীফ উল্লাহ এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার রেহানা পারভীন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাঁদের উৎসাহ দেন এবং জীবনের প্রতিকূলতাকে সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।
 দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সূচনা, উন্মুক্ত পরিবেশে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দলীয় কার্যক্রম, পেশাদার মনোসামাজিক কাউন্সেলিং এবং  মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি প্রানের স্মৃতিতে নামফলকসহ স্মারক গাছ লাগায় শিক্ষার্থীরা, যা প্রকৃতির বুকে তাঁদের স্মৃতি চিরসবুজ রাখবে। এরপর তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় 

শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 

রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকার প্রেসিডেন্ট শরীফ উল্লাহ বলেন, "রোটারির মূল আদর্শ মানবসেবা। মাইলস্টোনের শিশুদের মানসিক কষ্ট দূর করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। প্রকৃতির সান্নিধ্যে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে।"
 ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল ইসলাম বলেন, "ব্যবসার বাইরেও সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। পুবাইলের এই উন্মুক্ত পরিবেশ শিশুদের মনের ভয় কাটাতে সাহায্য করবে।"

শিল্পভিত্তিক এই থেরাপি শিক্ষার্থীদের ভেতরের আবেগ প্রকাশের একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং তাদের মানসিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর ফেরদৌস জানান, শিশুরা এই খোলা প্রান্তরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারলে, তারা প্রাণবন্তর ভাবে বাঁচতে শিখবে। ছুটি গ্রুপ পরিবার সবসময় তাদের ভবিষ্যৎ প্রকৃতির ছায়ায় সুরক্ষিত রাখতে তাদের পাশে থাকবে।

এই উদ্যোগের প্রবক্তা, সাংবাদিক ও রোটারিয়ান শাহনাজ শারমীন জানান, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে টানা ১২ দিন সংবাদ সংগ্রহের সময় শিশুদের ভয়াবহ মানসিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করার পরই তাঁর মনে এমন আয়োজনের চিন্তা আসে। তিনি ছুটি গ্রুপ, রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকা ও মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষকে আস্থা রাখা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা

সমাপনী বক্তব্যে ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফী বলেন, "আজ আমরা যে গাছ রোপণ করছি, তা আজকের এই শোকের চেয়েও অনেক বড় হয়ে বেড়ে উঠবে। এই শিশুরা কোনো তারিখ বা সংবাদ শিরোনামে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তারা আগামীর আলোর দিকে ক্রমবর্ধমান এক সবুজ বনের মতো চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"

অনুষ্ঠানে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছুটি গ্রুপ ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং রোটারি ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, দুর্ঘটনার আতঙ্ক হয়তো পুরোপুরি কাটে না, কিন্তু ভালোবাসা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা সেই বেদনা বহনের শক্তি জোগাতে সাহায্য করতে পারে। তারা সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।