প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দাবিতে কালো ব্যাজ কর্মসূচি, পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং প্রকল্পে ১৫০ উপজেলাকে ২০টি প্যাকেজে ভাগ করে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও ৮টি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ কাজ এনজিও সংস্থা এবং পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর কাছে গেছে বলেও দাবি করেন তারা

Apr 05, 2026 - 21:14
Updated: 6 months ago
0
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দাবিতে কালো ব্যাজ কর্মসূচি, পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ
কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রুমি। আলোকচিত্র: এটিটি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার (৫ এপ্রিল) অফিস চলাকালীন কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অধিদপ্তরের মিরপুর-২ কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রুমি, শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম এবং উপপরিচালক মো. কামারুজ্জামান। 

তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে প্রশাসনিক ভারসাম্য, পদোন্নতি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে হতাশা বাড়ছে।

তাদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং প্রকল্পে ১৫০ উপজেলাকে ২০টি প্যাকেজে ভাগ করে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও ৮টি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১২টি প্যাকেজ পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। 

অধিকাংশ কাজ এনজিও সংস্থা এবং পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর কাছে গেছে বলেও দাবি করেন তারা। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ না দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

সম্প্রতি প্রায় ১৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বে অঞ্চলভিত্তিক একাধিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলেও এবার সারা দেশে একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা প্রশ্ন ফাঁস ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর বাধ্যতামূলক করার বিধানকে তারা “দুর্নীতির সুযোগ তৈরি” হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তারা আরও দাবি করেন, লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ৪০০ পরীক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে একাধিক বোর্ড গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি স্কুল ফিডিং প্রকল্পে প্রতিটি প্যাকেজে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত উৎকোচ লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করেন তারা। 

পাশাপাশি নিয়ম ভেঙে একাধিক কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে সম্মানী ও টিএ/ডিএ গ্রহণের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

তাঁরা বলেন বিগত ১৫ বছরে যেসব কর্মকর্তারা অন্যায়ভাবে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে বা যাদের পানিশমেন্ট পোস্টিং হয়েছে তাদের ব্যাপারে এখনো বর্তমান ডিজি কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এর আগে, প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ২৯ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-পরিচালক পদে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন, স্বতন্ত্র প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার গঠন, প্রশাসনিক হয়রানির শিকার কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন, পদমর্যাদা উন্নীতকরণ এবং শূন্য পদগুলো দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ এপ্রিল) এক ঘণ্টার কলম বিরতি পালন করা হবে। দাবি আদায় না হলে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রতিবাদ সভা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User