গুলশান, বনানী, কূটনৈতিক এলাকায় ডিজিটাল বিলবোর্ডের যন্ত্রণা
এলইডি ডিসপ্লে স্থাপন করা হলে শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্যই নষ্ট হবে না, বরং পাখির আবাসস্থল ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
রাজধানীর কূটনৈতিক ও অভিজাত এলাকা গুলশান-১, গুলশান-২, বারিধারা, কাকলী মোড় ও বনানীতে নতুন করে এলইডি সাইনবোর্ড ও ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা জননিরাপত্তা, পরিবেশ, নগর নান্দনিকতা এবং কূটনৈতিক এলাকার মর্যাদার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত একাধিক আবেদন জমা দিয়েছেন বনানীবাসীর পক্ষে শাহ আলম নামের এক ব্যক্তি। আবেদনে তিনি গুলশান-২ চত্বরে নতুন করে ছয়টি বৃহৎ এলইডি সাইন স্থাপনের অনুমোদন বাতিল এবং বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন অনুমোদন স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলশান ও বারিধারা এলাকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক জোন। এখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিদেশি অতিথিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ভোরে দেশি-বিদেশি নাগরিক, পর্যটক এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা গুলশান ও বারিধারার সড়ক ও লেকপাড়ে হাঁটাহাটি ও শরীরচর্চা করেন।
স্থানীয়দের মতে, গুলশান-২ মোড় রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও সংবেদনশীল চত্বর। অতীতে এ এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাদের আশঙ্কা, বড় আকারের ডিজিটাল বিলবোর্ড ও উচ্চমাত্রার আলোক বিচ্ছুরণ চালকদের মনোযোগ বিঘ্নিত করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, গুলশান-২ চত্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭-এর অন্তর্ভুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ সড়ক ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাও এ এলাকার নিকটবর্তী। ফলে নিরাপত্তা বিবেচনায়ও নতুন করে বৃহৎ ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিকদের অভিযোগ, গুলশান-২ চত্বরের সড়কদ্বীপগুলোতে পরিণত বৃক্ষরাজি, সবুজায়ন এবং উন্মুক্ত দৃশ্যপট দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। সেখানে বড় আকারের এলইডি ডিসপ্লে স্থাপন করা হলে শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্যই নষ্ট হবে না, বরং পাখির আবাসস্থল ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, গুলশান-২ চত্বরের এলইডি সাইন সংক্রান্ত তিনটি রিট বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে অনুমোদন প্রদান আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদদের একাংশ মনে করেন, আন্তর্জাতিক মানের কূটনৈতিক ও আবাসিক এলাকায় বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা হতে হবে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং নান্দনিক। জননিরাপত্তা, সড়ক নিরাপত্তা ও নগর সৌন্দর্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, অনুমোদন ও ইজারা প্রক্রিয়ার নিরীক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন।

ATT Correspondent