উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারণে এবার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ড. মামুন
চার বছরের মেয়াদে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য নিযুক্ত হয়েছেন ড. মামুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য নিযুক্ত হয়েছেন। তার নিযুক্তির মেয়াদ হবে চার বছর।
শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অর্ডার (১৯৯৮ সালে সংশোধিত) এর প্রাসঙ্গিক ধারা অনুসারে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে সরকার তাকে চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।
তার মেয়াদকালে ড. মামুন তার পূর্ববর্তী পদে সর্বশেষ যে বেতন-ভাতা পেতেন, সমতুল্য বেতন-ভাতা পাবেন এবং ইউজিসি সদস্যদের জন্য বিধান অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডেলফি ইউনিভার্সিটিতে ফুলব্রাইট রিসার্চ প্রফেসরশিপ লাভ করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জাপানে জাপান ফাউন্ডেশন ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হাডার্সফিল্ডের অর্থনীতি, অর্থায়ন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি ২০১৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা পদ্ধতির ওপর পোস্টগ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট অর্জন করেন। তিনি ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নর্থামব্রিয়া থেকে সার্টিফিকেট ইন ল ডিগ্রি লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি মার্কেটিংয়ের ওপর এমবিএ ডিগ্রিধারী।
দেশ-বিদেশে দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে ড. মামুনের। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি ও লিডস ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি, জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ ও ইউনিভার্সিটি অব কোবে, ভারতের জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি এবং ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিটাস ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষকতা ও লেকচার প্রদান করেছেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ব্র্যাক, আশা, ইউএসএআইডি, ইউএনডিপি, জেট্রো, জাপান ফাউন্ডেশন এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ (জেবিসিসিআই) বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন।
গবেষণা ও প্রকাশনায়ও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রকাশিত বই, বইয়ের অধ্যায় ও গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০টির বেশি। তার গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি স্প্রিঙ্গার, রাউটলেজ, প্যালগ্রেভ ম্যাকমিলান ও এমেরাল্ডের মতো খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা থেকে তার বই ও বইয়ের অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

ATT Correspondent