জসিম মল্লিকের নতুন উপন্যাস 'নির্জন স্বাক্ষর' এখন বইমেলায়
মেজবাহ উদ্দিন নামে এক তরুণের জীবন-সংগ্রাম ও স্বপ্নের গল্প এই উপন্যাসে বিধৃত হয়েছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে যে আমেরিকায় গিয়েছিল কিন্তু ভাগ্যের এমন নির্মম পরিহাস যোলো বছর পর তাঁকে ফিরে আসতে হয়। দীর্ঘ অভ্যাসের পরও সে দ্রুতই মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে। হতাশাকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজেকে নুতন করে তৈরি করার এক অনন্ত লড়াইয়ের গল্প নির্জন স্বাক্ষর। ফিরে আসার পর প্রতি পদে নানা অভিজ্ঞতা ও বিচিত্র সব চরিত্রের কথা এই উপন্যাসে জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। কয়েক নারীও এসেছে ওর জীবনে। এর মধ্যে কাকে গ্রহণ করবে। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে নির্জন স্বাক্ষর পড়তে হবে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথিতযশা লেখক ও সাংবাদিক জসিম মল্লিকের জীবনবোধ নিয়ে রচিত ভিন্নধর্মী উপন্যাস 'নির্জন স্বাক্ষর'। বইটি বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এবারের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে স্বনামধন্য 'কবি প্রকাশনী'-এর ব্যানারে। জীবনের নানা টানাপোড়েন, দুঃখ-কষ্ট, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর ব্যর্থতার মধ্যেও যে স্বপ্ন বেঁচে থাকে সেটা সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে নির্জন স্বাক্ষর-এ। এই উপন্যাসে প্রেম, আশা ও স্বপ্ন পূরণের গল্প আছে। দেশের রাজনীতি, সামাজিক অবস্থা, মানুষের বদলে যাওয়া জীবনের গল্প।
মেজবাহ উদ্দিন নামে এক তরুণের জীবন-সংগ্রাম ও স্বপ্নের গল্প এই উপন্যাসে বিধৃত হয়েছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে যে আমেরিকায় গিয়েছিল কিন্তু ভাগ্যের এমন নির্মম পরিহাস যোলো বছর পর তাঁকে ফিরে আসতে হয়। দীর্ঘ অভ্যাসের পরও সে দ্রুতই মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে। হতাশাকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজেকে নুতন করে তৈরি করার এক অনন্ত লড়াইয়ের গল্প নির্জন স্বাক্ষর। ফিরে আসার পর প্রতি পদে নানা অভিজ্ঞতা ও বিচিত্র সব চরিত্রের কথা এই উপন্যাসে জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। কয়েক নারীও এসেছে ওর জীবনে। এর মধ্যে কাকে গ্রহণ করবে। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে নির্জন স্বাক্ষর পড়তে হবে।
এটি লেখকের পঞ্চদশ উপন্যাস। তাঁর প্রতিটি উপন্যাসই ভিন্নমাত্রার। প্রতিটি উপন্যাসই পাঠক-হৃদয় ছুঁয়ে গেছে প্রতিবার। নির্মেদ ও ঝরঝরে ভাষায় লেখা এ উপন্যাস নিমেষেই পাঠককে নিয়ে যাবে গল্পের গভীরে। এ এমনই এক জাদু এমনই এক আকর্ষণ, সহজ-সরল ভাষার আকর্ষণ যা পড়া শেষ না করে ওঠা যায় না।
জসিমের জন্ম ১৯৬১ সালে বাংলাদেশের বরিশালে। খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক হিসেবে লিখেছেন অসংখ্য গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা। এ পর্যন্ত প্রায় ৫২টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। জসিম মল্লিক কানাডার নাগরিক এবং বর্তমানে পরিবারসহ টরন্টোয় বাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। বিদেশে পাড়ি জমানোর আগে দেশের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও সাপ্তাহিক ২০০০-এ সাংবাদিকতা করেছেন। জীবন যদি হয় এক আশ্চর্য গল্প-বয়ান, জসিম তার সুনিপুণ কারিগর। যে জীবনকে নিবারণ করা যায় না এবং যা অনিবার্য, জসিম সেই কাহিনিই তুলে ধরেন। গভীর বোধ, বেদনা আর বিহ্বলতা না থাকলে জীবনকে কতটুকুই বা বোঝা যায়। হয়তো তা বুঝতেই জসিম ছুটে যান বরিশাল থেকে টরন্টো, মরক্কো থেকে মেক্সিকো, দুবাই থেকে ডালাস, আবার টোকিও থেকে মিলানো। পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ডানা ঝাপটানো পাখির মতন। এই বয়ে চলা, উড়ে চলাই তাকে ঋদ্ধ করেছে, জীবনের বোধ ও গভীরতায় করেছে সমৃদ্ধ।
হতাশাকে প্রশ্রয় দেন না জসিম যা তাঁর লেখায় ও যাপনে ফুটে ওঠে। কেননা তিনি জানেন জীবন মানেই ব্যর্থতা না, সেখানে সফলতাও আছে; শুধু ব্যর্থ বলে কেনো জীবন নেই। সেজন্যই জসিমের চরিত্ররা হারতে হারতে জিতে যায়, জিততে জিততে হেরে যায়। কিন্তু সেই হেরে যাওয়াটা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উজানে মৃত্যুর মতো। পাওলো কোয়েলহোর আবার তল থেকে উঠে আসার মতো, হারুকি মুরাকামির ভাঙচুর ভাঙচুর শব্দের মধ্যেও জয়ের প্রবল স্বপ্ন। বিশ্ব ভূগোলের অভিজ্ঞতা ও বাসিন্দা তিনি। তাই তার কাহিনি, চরিত্র নির্দিষ্ট কোনো ভূগোল নির্দেশ করে না। তাই তার বলা রাঢ়িখালের মেয়েটির গল্প হয়ে ওঠে টরন্টোর জেনিফারের গল্প। এই যে স্পর্শ বিন্দুকে ছুঁয়ে যাওয়া ও এক হওয়া — এটাই লেখককে বৈশ্বিক মর্যাদা দেয়। আন্তর্জাতিকতায় জসিম মল্লিক তাই ভিন্নধারার এক কাহিনিকথক — স্বতন্ত্র, বলিষ্ঠ, উচ্চমার্গীয়। ২০২২ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি প্রদত্ত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
মোস্তাফিজ কারিগরের প্রচ্ছদে অলংকৃত 'নির্জন স্বাক্ষর' উপন্যাসটি কবি প্ৰকাশনীৱ ৭০৫-৭০৬ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। বইপ্রেমী দর্শনার্থীদের জন্য বইমেলা খোলা থাকে দুপুৱ দুইটা থেকে ৱাত নয়টা পৰ্যন্ত।
